Archive for the ‘কবিতা’ Category

ছন্দ জট – ১.৫
জুলাই 30, 2008

চাঁদটা যখন মেঘ জড়িয়ে ধরে
রাতটা হাসে সংগে চুপটি করে
কখনো কি তা দেখেছো তুমি?
কি লজ্জা জমছিলো ঐ মুখে
প্রিয় কাউকে কাছে পাবার সুখে?

কিংবা তুমি মেঘের কথাই ধরো
আকাশটাতে হাত বাড়িয়ে
চোখের কোণায় কেমন জড়োসড়ো
ভাসছে অলস তোমার আমার
থেকে অনেক দুরে
নীল রঙা ঐ স্বপ্নালু পথজুড়ে।

তোমারো কি ইচ্ছে এমন হয়
পায়ের তলায় পিষিয়ে দিয়ে
অশান্ত আর দুষ্টু যত ভয়
হাতটি রেখে আমার ওপর হাতে
চাঁদমাখা ঐ অলস কোমল রাতে
হেঁটে হেঁটে যাওয়া অনেক দুর
যেখানটাতে আর কেউতো নয়
হাঁটবে তোমার আমার গাওয়া কোন
লজ্জা হাসির মিষ্টি ভীষণ সুর।

তুমি যাবে? যাবে আমার সাথে?
হাতটি তোমার রেখে আমার হাতে?

Advertisements

স্বপ্ন প্রলাপ
এপ্রিল 10, 2008

ইস! কী হলো যে আজ
শুধু অস্থিরতা ছুঁই
কাকে ভীষণ ভাবছি এখন
জানিস কি তা তুই??

কার খোঁপাতে বেলীর সুবাস
কিংবা হাসনাহেনা,জুঁই
আজো আমায় সবচে ভাবায়
বলতে পারিস তুই?

দুপুর ঘুমের স্বপ্নে আজো
যখন এপাশ ফিরে শুই
কার মনেতে এ মন ডুবাই
বুঝিস কি তা’ তুই??

কোন স্মৃতিতে যত্ন করে
আমার দুঃখগুলো ধুই
আজো ভাবি সবচে ভীষণ
তা’ জানতি যদি তুই!!

প্রকাশিত @সামহোয়্যার ইন

একটা নদী ছিল
জানুয়ারি 7, 2008

এখানে একটা নদী ছিল
কান্না রঙা আকাশ যার দু কূল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেত
আষাঢ় শ্রাবণ জড়াজড়ি করে বইতো সারাটা বছর
ঘোলাটে মেঘের দল প্রতিদিন যাকে যত্ন করে ধুইয়ে দিত
নিজের কষ্টগুলোকে বয়ে যেতে দেখে নিরন্তর
আর দুঃখরা আসতো সারি বেঁধে;
আজলা ভরে নীল রঙা পানিতে মুখ ধুয়ে
ঠাঁয় বসে থাকতো,
যতক্ষণ না নিজের ছায়া স্রোতের টানে উজানে ভেসে যায়। (বিস্তারিত…)

কেমন আছি
ডিসেম্বর 3, 2007

“কেমন আছিস?”
নিচু মাথাটা সোজা করে তাকাই
সামনে দাঁড়িয়ে হাসোজ্জ্বল বন্ধু আমার,
“এইতো,ভালোই বোধহয়”
বুকচেরা দীর্ঘশ্বাস যত্ন করে লুকিয়ে
হাসি হাসি মুখে কি অবলীলায় আজকাল
সাত রঙা মিথ্যা বলে যাই।
চোখের পাতা একটুও কাঁপলোনা
বুকটা হয়তো একটু প্রতিবাদ মতো জানায়
ব্যাস…ঐটুকুই;
দপ করে জ্বলে ওঠে নিভে যায়
মুখে আর কথা হয়ে ফোটেনা।

বন্ধু চলে যাবার পর
আবারো প্রশ্ন করি; নিজের কাছে নিজের জবাবদিহিতা
“কেমন আছি আমি?”
একাকীত্বকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে
জানা উত্তর অজানা ক্ষিপ্রতায় বাইরে এসে দাঁড়ায়
মাটিতে লুটায় আমিত্ব,
আমার ভেতরকার মিথ্যেবাদী আমি।
নগ্ন সত্যের কাঁধে মাথা কুটে মরে
যত্ন করে সাজিয়ে তোলা ভালমানুষির মুখোশ।
চেয়ারের কোলে মুখ গুজে কাঁদে
ক্লান্ত,পর্যদুস্ত আমার
পরাজিত,ঘুনে ধরা শরীর।
প্রকাশের দাবীতে সোচ্চার সাহসী কিছু দীর্ঘশ্বাস
ফিসফিসিয়ে যায় মুখটেপা নৈঃশব্দে…
এতকিছু নিয়ে আমি আজ ভালো নেই;
সত্যিই ভালো নেই।

হয়তোবা
ডিসেম্বর 3, 2007

মধ্য রাতের কাঁধে হাত রেখে যখন
জ্যোৎস্নার পিছু পিছু হাঁটি
এলোমেলো পায়ের আওয়াজ হয়তোবা আছড়ে পড়ে
আজো কারো বুকে। যে কীনা
রাত বুনে চলে একের পর এক
চাঁদনী ভেজা স্বপ্নগুলো আমার জন্য আগলে রেখে।
সময় আঁচলে ঘুমিয়ে থাকা কড়া মিঠে অতীত
কিংবা ভুল সময়ে ঝরে যাওয়া ভবিষ্যত
হয়তোবা আজো শুদ্ধ হয়
মুক্তো সাদা কারো চোখের জলে।
ঝিমিয়ে পড়া কোন দুপুর বেলায়
ঘুমঘোরে পাশ ফেরা কারো বুক চিরে
গলা বেয়ে যে শব্দটি ঠোঁটে এসে লুটিয়ে পড়ে
অনুচ্চ অস্ফুট স্বরে; কে জানে
হয়তোবা সেটা আমারই নাম।
আঁধার জড়ানো এলোমেলো চুলে চিরুনীর স্পর্শ বুলাতে গিয়ে
প্রিয় কোন গানের প্রথম যে চার লাইন
একলা মনে হঠাৎ গুনগুনিয়ে ওঠে
হয়তোবা তা’ আমাকে ভেবেই গাওয়া।

এতসব হয়তোবা মুঠোয় পুরে
পূর্ব রবি পশ্চিমে নামিয়ে আমি হেঁটে যাই
পেছনে বেড়ে ওঠা দীঘল ছায়ার আড়ালে
চকিতে যেন লুকিয়ে পড়ে চেনা দুটো চোখ।
হয়তোবা আমাকে দেখতে পেয়েই…

অব্যক্ত স্বপ্ন
নভেম্বর 27, 2007

হাজার মুখের ভীড়ে
এক মুখ নয় একবার
ফিরে ফিরে বার বার আসে
আজ আর আলো নয়
গোধূলীর ছায়া হয়ে ভাসে।

অপলক চাউনীতে
ভাবনার ছাউনীতে
আসে রোজ বিরহের দুপুরে
চুড়ি ভরা দুটো হাতে
বেজে চলে সময়ের নুপুরে

না শোনা সুরের মত
এক গান নয় একবার
ফিরে ফিরে বার বার ডাকে
আলেয়ার আলো হয়ে
সারক্ষণ খোঁজে যেন কাকে।

না ফেলা দীর্ঘশ্বাস
এখনো হাতড়ে ফেরে
আঁধার জ্বলা এক চিলতে রোদে
হয়তো সে মুখ আবার
ধরা দেবে স্বপ্নালু বোধে।

সব ভুলে যাও
নভেম্বর 25, 2007

তিথি,তুমি সব ভুলে যাও
সময় ভাজে লুকিয়ে থাকা
আমার স্মৃতি;
সব মুছে দাও।

শুধু আকাশ কোণায় মেঘ উড়ালে
একটু সময় তাকিয়ে থেকো
বৃষ্টি রাতের স্নিগ্ধ বাতাস
আলতো ছায়ায় স্পর্শে মেখো।

তাছাড়া আর সব ভুলে যাও
দৃষ্টি থেকে বৃষ্টি ধুয়ে
স্বপ্ন মাখাও।

শুধু ভোরের ভেলায় শিশির ছুঁয়ে
নরোম ঘাসের স্পর্শ নিও
নিঃসঙ্গ ঐ পেঁচার ডাকে
একটু খানি জবাব দিও।

এছাড়া আর সব ভুলে যাও
তোমার অমন দৃষ্টি তুলে
সামনে তাকাও।

শুধু নির্জনতায় পা ডুবিয়ে
একলা ছাদে একটু যেয়ো
শেষ বিকেলের দুঃখ ভুলে
গুনগুনিয়ে গানটি গেয়ো।

তাছাড়া আর সব ভুলে যাও
তিথি,তুমি সব ভুলে যাও।

সেই ছেলেটা
নভেম্বর 25, 2007

সেই ছেলেটা
একলা বসে
নদীর তীরে
ভাবনা কষে।

নীলচে আকাশ
মাথার ওপর
পায়ের নিচে
ঘাসের টোপর।

সামনে নদী
একলা মনে
বইছে কেবল
সু নির্জনে।

শান্ত বিকেল
শান্ত সবি
প্রকৃতি আজ
নীরব কবি।

সেই ছেলেটা
নীরব মনে
নির্জনতার
সংখ্যা গোণে।

একটা সময়
বিকেল থামে
ছেলের চোখে
সন্ধ্যা নামে।

দূরের পাখি
যাচ্ছে উড়ে
গোধূলিয়ার
করুণ সুরে।

সেই ছেলেটা
হাঁটছে এখন
লালচে আকাশ
সঙ্গী তখন।

রাত্রি আঁধার
মেলছে ডানা
ছেলের চোখেও
দিচ্ছে হানা।

ছেলের বুকে
শান্ত বেগে
অশান্ত সব
স্মৃতি জাগে।

জাগছে সাথে
দুঃখ গুলো
সুখের ওপর
সময় ধূলো।

দুঃখগুলো
দুই পা ফেলে
সঙ্গী স্মৃতি
হাঁটছে ছেলে।

ঝিঁ ঝিঁর ডাকে
বাড়ছে রাত
অশ্রুরা সব
বাড়ায় হাত।

হাঁটছে ছেলে
কাঁদছে সাথে
অশ্রু দিয়ে
দুঃখ গাঁথে।

অশ্রু ঝরে
শিশির ঝরে
নরোম ঘাসের
বুকটা ভরে।

ক্লান্ত সময়
পথটা ধূ ধূ
সেই ছেলেটা
হাঁটছে শুধু।

মাথার ওপর
আকাশ কালো
জোনাক তারা
দিচ্ছে আলো।

সেই ছেলেটা
হাঁটছে তবু
পেছন ফিরে
চাইছে কভু।

আর পারেনা
সময় থামে
বুকটা চিরে
ক্লান্তি নামে।

থামলো ছেলে
ফিরলো পাশ
হাঁটছে তবু
দীর্ঘ শ্বাস।

অপেক্ষার স্বপ্ন
নভেম্বর 22, 2007

তিথির চুড়ির রিনিঝিনি হয়ে
আঁধার চোখে যায় মিলিয়ে
স্বপ্ন আমার;
সুখ দুঃখের সুতোয় বোনা স্বপ্ন।

এক ফোটা সুখ
এক ফোটা দুঃখ
মিলেমিশে কত রাত হয়ে যেত ভোর।
বুকের ঠিক মাঝখানটাতে
ভেজা ভেজা স্পর্শগুলো
অনুভবে আবেশে হারিয়ে তবু যায়নি
রাত্রি চোখে আঁকা দুটো ঠোঁট
ফিরে ফিরে আজো আসে
জোনাকি জ্বলা নুপুর পায়ে।

এখনো তবু কান পেতে রই
তোমার অপেক্ষায়…
সুখ দুঃখের সূতোয় বোনা
হে স্বপ্ন আমার।

মেয়ে তোমার জন্য…
নভেম্বর 15, 2007

মেয়ে তোমার আজকে বিয়ে
আকাশ পানে দেখছো কি?
মেঘের ভেলায় মন ভাসিয়ে
আমার ছবি আঁকছো কি?

মধ্য বেলার উদাস দুপুর
খেলছে তোমার দৃষ্টিতে
শ্রাবণ রাতের মেঘ উড়ে যায়
কাজল ধোঁয়া বৃষ্টিতে।

মেয়ে তুমি আর কেঁদোনা
চোখটি মুছে একটু চাও
দূর আকাশে দৃষ্টি মেলে
দেখছোনা কি আমায় তাও?

হাতের মুঠোয় হাতটি ধরে
হয়তোবা আর হাটবোনা
আমার মনের ক্যানভাসে তাই
তোমার ছবি আঁকবোনা?

থাকবো তোমার চুলের ঘ্রাণে
খোঁপার ফুলের গন্ধটায়
থাকবে তুমি আমার লেখা
কবিতাটার ছন্দটায়।

উঠবো তোমার জানলা পাশে
আধখানা এক চাঁদ হয়ে
হাজার তারার আলোয় সাঁটা
আকাশ খোলা ছাঁদ হয়ে।

মেঘলা দিনে একলা ছাঁদে
চাইবে যখন দৃষ্টি ছুঁয়ে
আঁধার ভেজা তোমার চুলে
নামবো তখন বৃষ্টি হয়ে।

মেয়ে তুমি আর কেঁদোনা
আমার দিকে একটু চাও
তোমায় ভেবে হাসছি কেমন
কাঁদছিনাতো এক ফোঁটাও।

ভেবোনাগো মেয়ে তুমি
একটুও আর ভেবোনা
তোমায় দেয়া দশটি গোলাপ
ফিরিয়ে যে আর নেবোনা।

দু চোখ মেলে নাইবা পেলে
ভেবো আমায় চোখ বুজে
হাজার তারার মধ্যি থেকে
নেবো তোমায় ঠিক খুঁজে।

দীর্ঘশ্বাস
নভেম্বর 11, 2007

ভারী পর্দা টানা জানলাটা
যে কীনা ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়
আমার বিছানার ডানপাশটায়
নিস্কম্প দেবদারু ছায়ার মতোন।
হতাশা মগ্ন দুটো হাত
আজকাল বড় বেশী পর্দাটা মেলে দেয়,
ধোয়া চাদরে লুটোপুটি খায়
একটুকরো নীল আকাশ।
কত দূরে,
তবু কত কাছে মনে হয়।
শুধু তুমি যাও রয়ে তত দূর,
পর্দা টানা একটুকরো আকাশ হয়ে।

শোন…
নভেম্বর 11, 2007

শোন….

আমি তোমাকেই ভাবছি।

কী হলো?

পাচ্ছোনা শুনতে?

থাক….

তবু ভাববো।

এ আর এমন কি

না শুনিয়েই যে ভাবতে হবে,
সারাটা জীবন।

বৃষ্টি কথন
অক্টোবর 31, 2007

বৃষ্টি পড়ে টুপটাপ টুপটাপ
জানলা দিয়ে দৃষ্টি মেলে
বৃষ্টি দেখি চুপচাপ।

বৃষ্টি পড়ে ঘাসের ডগায়,ফুলের পরে
কেউ দেখেনা মনের মেঘে
নিত্য কত বৃষ্টি ঝরে।

ঐ আকাশে মেঘ ফুরোলেই বৃষ্টি থামে
এই আকাশে টিপটিপিয়ে
বৃষ্টি তবু বৃষ্টি নামে।

বৃষ্টি পড়ে টুপটাপ টুপটাপ
চোখটা ভেজে,গালটা ভেজে,
মনটা ভেজে চুপচাপ।

বৃষ্টি ভেজা রাতের কথা
অক্টোবর 31, 2007

সেদিন বৃষ্টি ভেজা রাত ছিলো,
হিম হিম হিম শীতল বাতাস
সারা গায়ে কাঁপন তুলে
আলতো ছোঁয়ায় ডাকছিলো।

আধখানা চাঁদ ধীরে ধীরে
আদর মাখা রাত্রি ছিড়ে
চুপটি করে হাসছিলো;
রাতের আঁধার গলে গলে
জানলা ছেড়ে যাবার ছলে
দৃষ্টিসীমার দুয়ার থেকে
পেছন ফিরে চাচ্ছিলো;
সেদিন বৃষ্টিভেজা রাত ছিলো।

রাত প্রহরী হাস্নাহেনা
চাঁদনীমাখা সুবাস বুকে
রাতের ছায়ায় ভাসছিলো।
ছন্নছাড়া মেঘের বেশে
তার স্মৃতি সব এলোমেলো
হাতছানিতে ডাকছিলো;
সেদিন বৃষ্টি ভেজা রাত ছিলো।

হাস্নাহেনা,চাঁদনী ভুলে
দুঃখ প্রিয় বিষন্ন সুর
আপনমনে বাজছিলো।
নীরবতার সঙ্গে বসে
নিরাশ্রিত অশ্রুরা সব
কান্না হয়ে হাসছিলো;
সেদিন বৃষ্টি ভেজা রাত ছিলো।

তার জন্য
অক্টোবর 31, 2007

এই লেখাটি তার জন্য
বৃষ্টি ধোয়া এক বিকেলে
খোলা জানালার শিক গলে
অদেখা আলোয় প্রথম যাকে দেখেছিলাম।
দুহাত ভরা চুড়ির আড়ালে
লুকিয়ে থাকা যার মেহেদী রঙ
চোখ বুজেও আমি স্পর্শ করতাম।

এই লেখাটি তার জন্য
চোখের আড়ালে থেকেও
যে মানুষটি সর্বক্ষণ
মনের ভেতর চুপটি করে বসে থাকে।
যার জন্য অপেক্ষায় থেকে
একের পর এক নিঃসংগ রাত
আমার সাথে বসে থাকতো নির্ঘুম।

এই লেখাটি তার জন্য
ঘড়ির কাটার সাথে পা মিলিয়ে
গোধূলীর রঙ হয়ে যে মিশে যাচ্ছে
আমার ভাষাশূন্য দুই চোখের তারায়।
যার ভালোবাসা বুকে জমিয়ে
অমাবস্যার নির্জনতায়
যত্ন করে পূর্নিমার টিপ এঁকে যাই।

এই লেখাটি শুধু তারই জন্য
কষ্টের ফ্রেমে বাঁধানো যার ছবি
প্রতিদিন আমি নিয়ম করে
ভালোবাসার টুকরো কাপড়ে মুছে দেই।

%d bloggers like this: