Archive for the ‘ক্যাডেট বেলা’ Category

ক্যাডেটীয় – ৮ (ক্লাস ইলেভেন পর্ব)
অক্টোবর 25, 2010

জলে রাজা কুমীরই তো, বনে রাজা সিংহ’য়
ক্যাডেট কলেজে ক্লাস ইলেভেনই কিং হয়!
তিনমাস ছুটি শেষে ভুড়ি নিয়ে মস্ত
আবারো কলেজে ফেরা, জুনিয়র ত্রস্ত!
ডাইনিংয়ে আগে গিয়ে বসে পড়ি আসনে
এ যে দেখি ভারি মজা রাজ্যটা শাসনে!
বেল দিলে গ্লাসে পানি নিয়ে খাই ঢকঢক
চোখাচোখি হলে জুনিয়র কাঁপে ঠকঠক!
ঘড়ি মানা অভ্যাসটাকে আমি টাটা দেই
পিটির ফলইনে রোজ দৌড় ভুলে হাঁটা দেই!
বাসা থেকে নিয়ে আসা ড্রেস পড়ে গাত্রে
করিডোরে ঘোরাঘুরি করি প্রতি রাত্রে!
সম্মান বাড়ে তাতে, বাড়ে নাম যশ রে
জুনিয়র দেখে ভাবে, আরে! কত বস রে! (বিস্তারিত…)

Advertisements

ক্যাডেটীয় ৭ (এস এস সি ক্যান্ডিডেটস টাইম)
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

কি তামাশা! মহান দয়াল আল্লাহ তাআলায় কৃপায়
আরেকটা ক্লাস রইয়াছে ক্লাস টেন-ইলেভেন চিপায়!
উপ্রে যে তার ক্লাস ইলেভেন, ক্লাস টেন ও ঠিক নিচে‍
এই ক্লাসেতেই ইনভিজিবল পুচ্ছ গজায় পিছে!
দাগেই শেখা, দাগেই মজা – এই কথাখান ভুলে
শিখবো – আশায় এপুলেটের সবগুলা দাগ তুলে
মনটা থাকার চুক্তি ছিল পুস্তকে আর খাতায়
তা’ রেখে সব শয়তানী জব ঘুরছে কেবল মাথায়!
উপরঅলাও সত্যি দেখি হাসছে মিটিমিটি
এখন থেকে গেমস আওয়ার ও মাফ হয়েছে পিটি!
তার বদলে বইয়ের পাতায় মুখ ডুবিয়ে টানা
(আসলেতো ঘুম হবে জাস্ট , পড়লে মাসুদ রানা)

এইগুলা তো দিনের বেলায়, আসল পড়া রাতে
জানতে ডিটেলস জাগতে হবে আজকে আমার সাথে

দেখবে কত রঙ্গ ভীষণ এই আমাদের মাঝেই
দুই ধরণের পাই ফলাফল একটা করা কাজেই
ডিম লাইটের তলায় রিসাত পড়ছে যখন ধুমায়
এক টেবিলেই নাসির তখন বালিশ ছাড়া ঘুমায়!
কেউবা পড়ে সিঁড়ির কোণায়, পিঠ দেয়ালে সেঁটে
কেউ পড়ে এই করিডোরেই ভাব নিয়ে খুব হেঁটে।
সেই সময়েই গবেষণায় ব্যস্ত সাকিফ, হিমেল
সো সিরিয়াস টপিক কি আজ ? আর কিছু নয়- ফিমেল!
এক চিপাতে ধোঁয়াও আবার যাচ্ছে হঠাৎ দেখা
এমন ভাবার নেই যে কারণ ঐ খানে কেউ একা
ইরাদ , চাচা, ফারশাদই তো; ভাবটা নিয়া হেভী
গোল্ডলীফে ঠোঁট? হয়তোবা হ্যা; কিংবা বোধহয় নেভী।
আরেকটা দল হল্লা করে ডিম লাইটের নিচে
টেবিল টেনিস ব্যাট, বলে আর একটু খানি পিচ এ
জমবে ক্রিকেট, চলবে টীজিং সঙ্গে এবং সাথে
কি মনে হয়? পড়াশুনা চলছে ভালোই রাতে!
একটা সময় ক্লান্ত হলে ঘাম জমিয়ে গায়ে
চুমুক চলে ফ্লাস্কে রাখা হরলিক্স নয় চা এ!

দেখলেনই তো নেইতো মোটেই ঘাটতি এবার পড়ায়
এসএসসিতে ভাগ্য দেখি কোন ঠিকানায় গড়ায়!

ক্যাডেটীয় ৬ (ক্লাস টেন পর্ব)
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

ক্লাস টেনে উঠে ভাবি এইবারে পায় কে
আমি কার খাই আর আমারই বা খায় কে?
মেঘে মেঘে বেলা বেশ হয়ে গেল কলেজে
অথরিটি টের তার পায়নি কি নলেজে?
ওকে, বেশ দেখা যাক সামনেতে হয় কি
আমি কি হে ছোট আছি? আমারই বা ভয় কি?
নয়কি?

আমি পড়ি গোল টুপি জুনিয়র কিস্তি
নড়চড় হলে তার মুখে করি খিস্তি।

ঘড়ি হাতে মারি ভাব, নেই যার বাবা মা
ম্যারিকার পথ ধরে হাঁটে‍ যেন ওবামা।

ছানাপোনা সেভেনের জুনিয়র সরিয়ে
ডাইনিংয়ে দুই হাত টেবিলেতে ছড়িয়ে
বেল্ট লুজ করিয়ে
তিন প্লেট ডাল খাই পুরো পেট ভরিয়ে।
আহ!সুখে দিনগুলো যায় বেশ গড়িয়ে।

ভাবি-বাছা , টেনে নাই উঠলে কি জানতি
শেডে আর লন ক্রসে দুনিয়ার শান্তি?
বল্,তুই কোনদিনও মানতি?

রোদে,ঝড়ে, হোল আর নাই হোল বৃষ্টি
শেডে হাঁটি , ইলেভেন হানে কড়া দৃষ্টি
গোলযোগ হলো বুঝি সৃষ্টি।

ক্লাস টেনে ক্ল্যাশ যদি নাই হয় এডিশন
তবে কী হে মান থাকে, থাকে কোন ট্রেডিশন?
এখনো কি মাথা নিচু, পাশে হাত বান্ধা?
উহু, মোরা আর নই সেভেনের গান্ধা।

অল্টারনেট ভায়া চায় যদি অল্টার
করে দেবে; পাবে সাথে হাতে নাতে ফল তার
বুঝে যাবে ফুঁসে ওঠা বুকে দাবানলটার।

যেই ভাবা ইলেভেন ঘটনাতে নাক দেয়
আফটার থার্ড প্রেপ টিভি রুমে ডাক দেয়
বলে- “টেন, বুঝতেসো করে গেছো গ্রেড ক্রস?”
আমাদেরই সাথে তুমি করো লন,শেড ক্রস?!

আরো কত বকা ঝকা, কত কথা কপচান
মুখে ত্যাড়া ভাব ধরে মনে ভাবি- অফ যান।

শেষে এসে ঘটনাটা বড় ফাটাফাটি হয়
টেনে আর ইলেভেনে কথা কাটাকাটি হয়।
এরই রেশ ধরে বেশ চলে স্নায়ু যুদ্ধ
চলে ভারী রেষারেষি পুরো ব্যাচ সুদ্ধ।

এত কিছু পরও আহা! মনে মনে কৈলাম।
হৈলাম আমি তবে, সিনিয়র হৈলাম।

ক্যাডেটীয় ৫ (ক্লাস নাইন পর্ব)
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

ক্লাস নাইনে উঠেই গেলাম তবে
ক্যামনে দেখি ঠেকায় ক্যাঠায়
এইবার সব হবে।

সিনিয়রের চোখ রাঙানি
সকাল বেলার ঘুম ভাঙানি
চিল্লানিটা ঠিকই যাবে কমে
লাইফ এবার উঠলো বুঝি জমে।

ডাইনিং এতে খেয়াল খুশি
হাত ঝুলিয়ে এখন বসি
আগের মত শান হওয়া নেই
ভয় পেয়ে খান খান হওয়া নেই
ইচ্ছেমতন ঝোলটা নেয়া যাবে
নেই ক্ষতি আর হিসাব এবার লাভে।

নতুন আরেক ব্যাচতো এসে হাজির
ঠ্যংটা ভেংগে দুই হাতে ঠিক
ধরিয়ে দেব পাজির।

অল্টারনেট ব্যাচটা কেমন কড়া
ক্লাস সেভেনের চান্দু এবার
ট্রেডিশনের কন্ডিশনে ধরা

খাইলে কেমন হাসফাসই না লাগে
বুঝবে সেটা সেভেন বেটা
অন্য কিছু বুঝতে পারার আগে।

ফলইনে লেট করছি এখন মহা
দেখেও না দেখারই ভান
করছে প্রিফেক্ট? আহা!

কিন্তু হঠাৎ হলো কি আজ, একি!
হাউস প্রিফেক্ট চোখ ইশারায়
ডাকছে আমায় দেখি।

একটু না হয় লেট হয়েছে বেশি
তাই বলে কি এমন করে
সব জুনিয়র কেমন করে
তাকিয়ে থাকার মাঝে
চোখ রাঙিয়ে আমায় ডাকা সাজে?
মান সম্মান হলোই বুঝি শেষই।

এরপরে… থাক নাই বল্লাম আজই
প্রিফেক্ট ব্যাটায় খাইস্টা পুরা
ভীষন ভীষন পাজি।

মনটা এখন স্যাড রয়েছে ভেরী
ফুল সিনিয়র হইতে আরো
দুইটা বছর দেরী।

ক্যাডেটীয় ৪ (ক্লাস এইট পর্ব)
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

বছর শেষে নতুন বছর আসলো তাকে হাই দিলাম
ক্লাস এইটের হাতটা ধরে সেভেনকে গুডবাই দিলাম।
ঘাম ঝরানো একটা বছর ক্যামনে যে শেষটায় এলো
গান্ধা থেকে ক্যাডেট হবার প্রাণান্ত চেষ্টায় গেলো।
এইটে এসেও হয়না তো শেষ ক্লাস সেভেনের সীনগুলো
চলছে টু বি কন্টিনিউড ঘাম ঝরানো দিনগুলো।
অষ্ট প্রহর কষ্ট করে বেগার খাটি কামলাতে
অলস সময় ব্যস্ত কাটে সব সিনিয়র সামলাতে।
অমুক ভাইয়ের হাঁক শুনে তাই still চিল্লাই-”খাইসে,ম্যান!
পোড়া কপাল ভাল্লাগেনা ,আয় জুনিয়র,আয় সেভেন!!
দিনটা শুভ এলোই তবে,নিউয়েস্ট ব্যাচের আবির্ভাব
রঙচঙা হয় ক্যাডেট লাইফ,সংগে খবরদারীর ভাব।
সেই ভাব এ তে দাপড়ে বেড়াই পালটে যাওয়া কলেজটায়
রেড সিগন্যাল pass করা হয় ক্লাস সেভেনের নলেজটায়।
আমরা ব্যাটা কষ্ট করে একটা বছর পার হ্লাম
স্মার্টনেস সব শিকেয় তুলে সিনিয়রের ভাড় হলাম।
এবার বাছা তোদের পালা হও রেডী হও shame নিতেই
না হলে কী ক্যাডেট কলেজ নাম হয়েছে এমনিতেই??
যে ছেলেটা ক্লাস সেভেনে বলতো মোটেও “করবোনা”
সেভেন এলে একটা ভুলও ভুলেও আমি ধরবোনা।
তাকেই এবার ফ্রন্ট লাইনে সবার আগে যায় পাওয়া
সেভেন আসার কদিন বাদেই “ত্রাস” হিসেবে রায় পাওয়া।
দেখতে তো বেশ ভালোই লাগে লুকডাউনের face গুলো
তৃপ্তি নিয়ে দেখতে থাকি ক্লাস সেভেনের কেস গুলো
বদলেছে কি? এক বছরে? দুঃখ এবং সুখগুলো?
সেভেন লাইফ একই আছে, পাল্টেছে জাস্ট মুখগুলো।
অতর্কিতে ক্লাস সেভেনের রুমগুলোতে দেই রেইড
না হলে কি চলবে নাকি? আমরা এখন ক্লাস এইট।
পান থেকে চুন খসলে পড়েই এক্কেবারেই সর্বনাশ
জুনিয়রের কোয়াইট আওয়ার,রেস্ট আওয়ারের পর্ব নাশ।
এরম করেই দিনগুলো যায়, সেই সাথে যায় রাত খানি
সামনে ডাকে নতুন বছর ক্লাস নাইনের হাত ছানি

ক্যাডেটীয় ৩ (ক্লাস সেভেন পর্ব)
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

বিদায় দিলাম বাসার উঠোন,বাবা এবং মাকে
বিদায় দিলাম সংগে আসা আগের জীবনটাকে
ভোরবেলাতে ঘুমটা যখন আসছে হয়ে গাঢ়
কী মুশকিল তখন উঠে জোরসে কদম মারো।
বাম ডান বাম চক্রপাকে পড়লো জীবন বাঁধা
লুজ পা মেরে স্টাফের চোখে প্রথম দিনেই গাধা।
পা’টা আরো হাইটে এনে করতে হবে প্রেস
সংগে নাকি থাকতে হবে ভীষণ রকম তেজ
সব সিনিয়র মজায় যখন করছে পিটি গেমস
তখন ভাবি “হাউ ক্যান উই সলভ দিজ প্রবলেমস্‌।”
ড্রিল প্র্যাকটিস নাই বা হলে কার কি এমন ক্ষতি
হঠাৎ স্টাফের চিল্লানিতে চিন্তাতে দেই যতি।
ফ্রন্টরোলে আর মকরামিতে আউলা প্যারেড গ্রাউন্ড
ফ্রগ জাম্পতো সাথেই আছে আনলিমিটেড রাউন্ড।
ড্রিলের শেষে ক্লান্ত বেশে ক্লাস রুমেতে ছুটি
ফার্স্ট ক্লাসেতেই যাই ঘুমিয়ে লাস্ট ক্লাসেতে উঠি।
তাও যদি সব ঝুটঝামেলার শেষ এখানেই হতো
এই দুনিয়ায় আর সুখী কেউ থাকতো আমার মতো?

হাউসে এলেই জন্ম আবার নানান রকম হ্যাপা’র
সুঁই পরিমাণ ফল্টটা ধরেও কয় সিনিয়র, “ব্যাপার”
হাঁটতে হবে নিচু মাথায়,লুকটা করে ডাউন
ক্লাস সিক্সের স্মার্ট ছেলে হয় ক্লাস সেভেনের ক্লাউন।
করিডোরে এক পা দিলেই গর্জে ওঠে- “ক্যাঠা?”
“ঐ জুনিয়র, কেলাস সেভেন,আয় তো এদিক ব্যাটা।”
কোয়াইট আওয়ার,লাইটস অফের ঘুমটা করে মাটি
দিন থেকে রাত গুরু ক্লাসের কামলা হয়ে খাটি।
স্বল্প ট্রাইয়ে অল্প দিনেই সব কাজেতে ফিট
মেটাল পালিশ,বুট পালিশে ডিপ্লোমা কমপ্লিট।

এবার আসি খাবার কথায়,প্রব্লেমস সব গ্রেটার
ডাইনিং হলে ঢোকার চেয়ে জাহান্নামও বেটার
প্রথম কদিন যুদ্ধ ভীষণ চামচ এবং ফর্কে
সংগে নানান নিয়ম কানুন,যাচ্ছি ভীষণ ভড়কে।
টেনশিত মন সারাটা ক্ষণ,টানতে গিয়ে ঘানি
ভাতটা কখন শেষ হয়ে যায় কিংবা জগের পানি।
পান থেকে চুন খসলে পড়েই “ঐ জুনিয়র গাধা”
“হাতটা কি তোর পেছন দিকে শক্ত করে বাঁধা?”
তাকিয়ে দেখি ডালটুকু শেষ,গালটা খাওয়াই বাকি
নিচু মাথায় হাঁত উচিয়ে মূর্তি সেজে থাকি।
others thought এর যন্ত্রণাতেই রই অলওয়েজ বাটে
খাওয়া দাওয়ার চিন্তা ওঠে এক নিমিষেই লাটে।

এক হিসেবে ক্লাস সেভেনই সকল কাজের কাজি
এরাই আবার তিন নাম্বার ছাগল শাবক সাজি।

বলছি এবার যাদের ভেবে শেষটাতে এই এসে
কষ্ট ভুলেও কলেজটাকে ফেলছি ভালোবেসে
যে মুখগুলো কদিন আগেও সব অচেনা ছিল
অল্পদিনের মাঝেই কেমন কাছের মানুষ হলো।
ওদেরকে পাই আমার সকল শুরু এবং শেষে
দুঃখ এবং কষ্ট ঘোঁচায় বন্ধু হয়ে এসে।
আঙুল গোণা পঞ্চাশ কলি এক কুঁড়িতে ফোটা
ওদের সাথেই আজকে আমার “আমি” হয়ে ওঠা।

এদের সংগে করেই দিলাম সবটুকু পথ পাড়ি
বলছি ধীরে,এতো আগেই দিচ্ছিনাকো দাঁড়ি।

ক্যাডেটীয় ২
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

শুরু হল সেই ছেলেটির ক্যাডেট জয়ের মিশন
কদিন আগেও যে ছেলেটা দস্যি ছিল ভীষণ
কোন কালেই বইয়ের সাথে যার ছিলনা খোঁজ
সেই ই কীনা নিয়ম করে পড়তে বসে রোজ
দিনের পড়া যত্ন করে সেই দিনেতেই শেখে
সবাই অবাক ছেলের এমন বদলে যাওয়া দেখে।
ভাবলো সবাই কিছু ক্ষণের জন্য এ পাগলামি
হয়তো আবার কদিন পরেই বদলে যাব আমি
একটা সময় বুঝলো ওরা,বনলো সবাই fool
রেজাল্ট দেবার সঙ্গে সাথেই ভাঙ্গলো ওদের ভুল।
দেখতে দেখতে ভাইবা হল,মেডিক্যালটাও গেল
এক সকালে যুদ্ধ জয়ের সেই চিঠিটা এলো।
ছেলের গর্ব বাবার ঠোটে সূর্য হয়ে ওঠে
মায়ের চোখে সুখটুকু সব অশ্রু হয়ে ফোটে।
ঘুমগুলো কই হারিয়ে গেল জোনাক পোকার ঝাঁকে
ক্যাডেট কলেজ আমায় কেবল হাতছানিতে ডাকে।
নতুন জীবন,বন্ধু নতুন,নতুন পথের শুরু
এসব ভেবে উত্তেজনায় মনটা দুরু দুরু।
সময় হল বিদায় বলার অনেক বেলার ঘুম
লম্বা চুলের দস্যিপনা,মায়ের বুকের ওম।
চারপাশটার সবকিছুতেই বিষাদ কেমন মাখা
মা বাবাকে ছাড়বো ভেবে দুঃখ মেলে পাখা
তিন নাম্বার দিনের কথা,অশ্রু করে খুন
বছর হলো নিরানব্বই,মাসটা ছিল জুন।
ঝকঝকে এক বিকেল রোদে বুকটা দুরু দুরু
বালক বেলার হাতটা ছেড়ে ক্যাডেট বেলার শুরু।

নতুন পাওয়া সেই জীবনে যুক্ত হলো যারা
বলছি ধীরে তাদের কথা,এত্তো কীসের তাড়া?

ক্যাডেটীয় ১ ( সূচনা )
ফেব্রুয়ারি 27, 2010

কতই বা আর বয়স তখন নয় কিংবা দশে
বাবার সাথে দেখছি টিভি ড্রয়িং রুমে বসে
হচ্ছে তখন অনুষ্ঠান এক মেধাবী মুখ নিয়ে
দেখছে বাবা,দেখছি আমি অবাক দৃষ্টি দিয়ে।
এস এস সিতে ওরা নাকি করেছে সবার ভালো
কয়েকজনকে দেখে আমার দৃষ্টিটা আটকালো।
বলি-”বাবা,ওদের ড্রেসটা অন্যরকম কেন?”
খাকি জামায় সবার মাঝে সবচে বেশি যেন।
বলেন বাবা- অমন ড্রেসে নিচ্ছে যারা ক্রেস্ট
ক্যাডেট ওরা,পড়াশুনা,সব কিছুতেই বেস্ট।
মুগ্ধ চোখে দেখছি আমি,দেখছি ওদের চেয়ে
গর্বে কেমন ঝকঝকে মুখ স্বীকৃতি আজ পেয়ে।
কি জানি কি হয়ে গেল অল্প সময় ক্ষণে
খাকি জামা পড়ার নেশা জাগলো ছোট্ট মনে।
অবুঝ আমি আস্তে করে বাবার হাতটা ধরে
বলি-”বাবা,ক্যাডেট হবো।দেবে ভর্তি করে?”
হাসেন বাবা,চোখ নাচিয়ে বলেন-ওরে,খোকা
তার আগে যে অনেক অনেক পড়তে হবে বোকা।
শুধোই-বাবা, এ আর এমন কঠিন কোন কাজ!!
তোমার ছেলে পড়বে ভারী,হচ্ছে শুরু আজ।
সেদিন থেকে ছোট্ট ছেলের সব কিছুতেই একা
দৃপ্ত পায়ে জলদি চলের স্বপ্ন শুরু দেখা।

ভীরু ভীরু সেই ছেলেটার শেষটাতে কি হলো?
বলছি দাঁড়াও পরের পর্ব এই বুঝি এই এলো।

%d bloggers like this: