Archive for the ‘ছবিতা’ Category

বৃষ্টি নামে, নামে রে!
অগাষ্ট 21, 2014

বৃষ্টি নামে, নামে রে!
উপর নিচে, সামনে পিছে
নামে ডাইনে বামে রে!

বৃষ্টি নামে মরচে ধরা রেলিংটাতে
জানলা দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া কোমল হাতে
অঝোর ধারায় বৃষ্টি তাড়ায়
দাবদাহকে ঘা মেরে!
বৃষ্টি নামে, নামে রে!

বৃষ্টি নামে ক্লান্ত ঢাকা শহরটাতে
ব্যস্ত রোডে নিথর জ্যামের বহরটাতে
উদাস হবার মন্ত্রখানি
বিকোয় জলের দামে রে!
বৃষ্টি নামে, নামে রে!

বৃষ্টি যখন ঘনিয়ে আসে আঁধার সাজে
একটা কেমন অনুভূতি বুকের মাঝে
বৃষ্টি আমায় পাঠায় চিঠি
মেঘপিয়নের খামে রে!
বৃষ্টি নামে, নামে রে!

 
Advertisements

হয়তো তুমি
মার্চ 23, 2014

হয়তো তুমি স্মৃতির ভীড়ে একলা কোন মেঘ
হারিয়ে ফেলার ভয় হারিয়ে দাঁড়িয়ে নিরুদ্বেগ
হয়তো তুমি হঠাৎ দেখা খুব চেনা এক তারা
আঙুল গলে লুকিয়ে পড়া শ্রাবণ জলের ধারা
হয়তো তুমি দূর অতীতের একটু অভিমান
সুখের ঘোরে আনমনা এক বিষণ্নতার গান
হয়তো তুমি সন্ধ্যেবেলার হঠাৎ অন্ধকার
নিছক আশায় শব্দে, ভাষায় মগ্ন ছন্দকার
হয়তো তুমি নওতো তুমি, তুমি অন্য কেউ
তুমি বোধহয় স্মৃতির না’য়ে আছড়ে পড়া ঢেউ

এলোমেলোতা
ফেব্রুয়ারি 6, 2011


সেই ছেলেটা একলা হাঁটে মন খারাপের দেশে
একটু হাসি, একটু বিষাদ সঙ্গে হাঁটে এসে
কাছেই কোথাও বাজছে বাঁশি, কোমল কোন সূরে
স্বপ্ন ভাঙার মগ্ন বিকেল ডাকছে কোথাও দূরে
হঠাৎ করেই কুড়িয়ে পাওয়া, হঠাৎ কাছে আসা
হঠাৎ করেই হারিয়ে ফেলা একটু ভালোবাসা
মন বসেনা ছন্দে, ছড়ায়, মন বসেনা গানে
মন হারালো কোথায় শুধু সেই ছেলেটাই জানে

(ল)
অক্টোবর 9, 2009

বুকের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা একলা আকাশ
তারার মতোন জ্বলতে থাকা তোমার স্মৃতি
বাড়িয়ে দু হাত দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত আমায়
ছাড়িয়ে গিয়েও হারিয়ে তুমি যাওনি, তিথি ।
স্বপ্নগুলো মগ্ন যে নেই অতীত শোকে
সেই কবে শেষ তাকিয়ে ছিলাম তোমার চোখে
ভুলতে বসা ওই চুলে ঘ্রাণ, নিপাট সিঁথি
হারায়না সুখ, হারায়না শোক, আমার তিথি…

বন্ধুতুড়ে
জুন 7, 2009

বন্ধু তুমি ভাবছো একা বসে
ভাবছো তুমি বন্ধু বোধহয়
হারিয়ে গেছে একলা তোমার দোষে।

বন্ধু তোমার নেইতো কিছু ভাবার
যে রয়ে যায় ঠিক রয়ে যায়
সেই চলে যায় যার তো কথা যাবার।

বন্ধু তুমি ভাবনা ঝেড়ে ফেলো
যে ভুলে যায় এই অবেলায়
তার বদলে বন্ধু যারা এলো

তুমি তাদের কথা ভাবো
রইলো যারা সকাল সাঁঝে
তোমার সকল দুখের মাঝে

আগলে রেখো তাকে
কেমন আছো? – বলবে হেসে
ক্লান্ত অবশ দিনের শেষে
সকল রকম ব্যস্ততাদের ফাঁকে।

বন্ধু তুমি ভাবো
আরেকটিবার ভাবো
সত্যিকারের বন্ধু যারা
হারিয়ে গেলে কোথায় তাদের পাবো?

কুটুশ :-)
মার্চ 18, 2009

নীল উঠোনের একটু আঁধার মেঘে
জানিস কি তুই
ঠিক কতটুক দু:খ আছে জেগে?
জানলে দেখি তুই আমাকে ফিঁসফিঁসিয়ে বল
মেঘ নাকি ঐ মেঘবালিকার চোখের তারায় জল?
বলতো আমায় কোন অবেলায় বৃষ্টি নামে হেসে
মেঘকে ভালোবেসে?
বলতে পারিস কোন রোদেতে ছায়া লুকায় সাথে
কিংবা কোন চাঁদ হারানো রাতে
কোন তারাটা একলা জাগে , একলা কাউকে ভেবে
জমিয়ে রাখা সব আলো রঙ জোনাকটাকেই দেবে?
নয়তো কোন মেঘ পিয়নের খামে
ঠোঁটের তিলে লুকিয়ে থাকা কষ্টটুকুর দামে
মেঘ বালিকা দু:খ পাঠায় কাকে?
হারিয়ে ফেলা সুখ মোহনার বাঁকে
জানিস কি তুই কোন স্মৃতিটা
সবচে বেশি দামী?
কেউ জানেনা, কেউ জানেনি
জানতো কেবল সেই পুরনো আমি…

লাল্ভাগেনা!!
মার্চ 9, 2009


অতীত আমার, চাইছি ক্ষমা
এবার করো একটুখানি সন্ধি
দু:খ তুমি যাও মিলিয়ে
মন খারাপের ক্ষণ বিলিয়ে
আমি যে হায় স্মৃতির খাঁচায় বন্দী

সে এবং সে
ফেব্রুয়ারি 9, 2009

মাথার ওপর একটা নীলাকাশ ছিল
পায়ের নিচে শিশির মাখা ঘাস ছিল
যেই ছেলেটা কান্না চেপে হাসছিল
তার মনেতে মন খারাপের বাস ছিল।

হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ এলো গান মনে
সেই ছেলেটা গাইছিল তা আনমনে
চোখের কোণায় একটু শিশির প্রাণপণে
স্মৃতির সুঁইয়ে ক্লান্ত অভিমান বোনে।

সেই ছেলেটার একটা নিজের ঘর ছিল
সেই মেয়েটা অনেকটা দিন পর ছিল
সেদিন হঠাৎ… দু মনেতেই ঝড় ছিল
(তারপর..) দু দুটো মন এক ঘরে বাস করছিলো।

সেই ছেলেটার মনে তখন সুখ ছিল
বুক পকেটে সেই মেয়েটার মুখ ছিল
যেই মেয়েটার ঘর জুড়ে শাহরুখ ছিল
দেয়াল ছেড়ে ডাস্টবিনে সব ধুঁকছিল।

কিন্তু….

সূর্য জ্বলে আকাশ নামের ছাদটাতে
সেই ছেলেটাই হাঁটছে দেখো মাঠটাতে
আজ মেয়েটার হাত ধরা নেই হাতটাতে
ফাটল বুঝি ধরলো আবেগ বাঁধটাতে।

সেই ছেলেটার গানের খাতায় সুর ছিল
কিন্তু ওসব আজকে বহু দূর ছিল
মাথার ওপর একটা শালিক উড়ছিল।
মনটা ভীষণ প্রখর রোদে পুড়ছিল।

সেই ছেলেটা হাঁটছিলো তো হাঁটছিলো
হয়তো সবার অগোচরে কাঁদছিলো
দিনের বেলা, তবু মনে রাত ছিলো
ক্রমশ চোখের আড়াল হয়ে যাচ্ছিলো।

………………..

সেই ছেলেটা হয়তো মনের কল্পনা
কিংবা এটা নিছক কোন গল্প না
তবুও জেনো কষ্টগুলো অল্প না
কেন? সেটা তোমায় আমি বলবোনা।

হয়তো তুমি জানবে কারণ আজ রাতে
নয়তো যখন হয়না তো ঘুম, কাজ রাতে
হঠাৎ জেগে দেখবে কোন মাঝ রাতে
ঘুমিয়ে ছেলে তোমার বুকের পাজরাতে।

সাদাকালো ভাবনার রঙ
জানুয়ারি 25, 2009

ক্লান্ত চোখে একটু জমা শিশির
আর পুরোনো লক্ষ জোনাক তারা
ভাবছি বসে নতুন কারা এলো
আর হারালো আমায় ছেড়ে যারা।

যেই দিনটা সারা দুপুর জুড়ে
হাসলো ভীষণ রোদের ছায়ায় মিশে
একটু রাতের আড়াল পেয়েই দেখো
কাঁদলো অঝোর সব হারানোর বিষে।

ভাবছো তুমি খুব বোকা ও, তাই
অতীতটাকে ভাবছে আজো মিছে
অনেকটা পথ একলা হেঁটে এসেও
ডাকছে যাকে আসলো ফেলে পিছে।

সামনে কত ঘাস ফুলেদের মিছিল
বলবে তুমি ভুলবো সকল হারা
ভাবছি আমি ভাবছি মিছেই তাদের
ভাবনা ঝেড়ে ফিরবেনা আর যারা।

কিন্তু তুমি একটা কথা ভাবো
মেঘগুলো কি একটা দিনও শুকোয়?
ঝঝঝকে দিন যায়না মুছে, শুধু
রাত্রি ছায়ায় একটুকু মুখ লুকোয়।

যেই তারাটা পড়লো হঠাৎ খসে
ভাববে – ও তো গেছেই চলে দূরে
উহু! তুমি দেখছো না কোন স্মৃতি
জ্বলছে আমার একলা আকাশ জুড়ে?!

শোলোক
জানুয়ারি 8, 2009

১.
পেন্সিলে আঁকা পরী
খেলে শুধু লুকোচুরি
আমাতে
পারবে কি কেউ তাকে থামাতে?

২.
ইশ! দেখেছিস, আকাশ কী নীল ঐ
ঐ নীলিমার মধ্যে আমার
নীল পরীটা কই?

তুই লুকিয়ে আছিস তাতে?
আমায় ভেবে যত্ন করে
নীল মেঘেদের রঙ মেখেছিস হাতে?

তোর খোঁপায় কি রে?
ফুল?
নাকি শুভ্র সাদা মেঘের মায়ায়
দেখছি আমিই ভুল?!

এদিক খুঁজি, ওদিক খুঁজি
তুই এখানে নেইকো বুঝি?

তুই আছিস কোথায়?
বলনা আমায়
যতই দেখি পাইনা কোন থই

ইশ! আমার নীল পরীটা কই!

হুমম
জানুয়ারি 3, 2009

শেষ বিকেলের একটু আলোয়
একটুকু সেই ক্ষণ
হাতের ওপর পড়লো ও হাত
মনের ওপর মন।

তারপরও তো কত বিকেল
দিন গেল আর রাত
মনটা কাছে থাকলো শুধু
ছাড়তে হল হাত।

তাই বলে কি ভাবছো তুমি
যা ছিল সব ছল?
চোখের কোণায় হাসছে দেখো
ভালোবাসার জল।

বিষণ্ণতার রঙ
জানুয়ারি 2, 2009

বিষণ্ণতার হয়নাতো রঙ কোন
ওম জড়ানো শীতের ভোরে
স্বপ্নভাঙা ঘুমের ঘোরে
মনটা খারাপ কাউকে ভেবে যেন
এর নামটিই বিষণ্ণতা জেনো।

তারপরও হায়, সবকিছু ধায়
দিন চলে যায়,রাত চলে যায়
হয়তো অন্যমনস্কতায়
মন ফিরে চায়
বিষণ্ণতায়

যায়না তবু সে দূরে ছাই কেন?
বিষণ্ণতা এমনই হয় জেনো।

ছন্দ জট – ১.৮
অক্টোবর 17, 2008

টাপুর টুপুর দুপুর বেলায়
বৃষ্টি আসে মেঘের ভেলায়
আলসেমিয়ে রৌদ্র ভিজে
প্রজাপতির রংধনু রঙ ডানায়
বৃষ্টিরে তোর নুপুর খানি
তোর পায়েতেই সবচে বেশি মানায়।

তুই নামবি খোঁপার শিউলী ফুলে
ঐ কিশোরীর দীঘল চুলে
ফিঁসফিঁসিয়ে নিঝুম রাতে
মেসবাড়িটার একলা ছাদে
ছটফটিয়ে পড় লুটিয়ে
আসমানীদের চিলতে উঠোন খানায়
বৃষ্টি তোকে ওদের মাঝেই
নুপুর পায়ে সবচে বেশি মানায়।

তা রেখে ছাই ভুল দুপুরে
টাপুর টুপুর ভুল নুপুরে
হেলায় ফেলায় এই অবেলায়
ভুল জানালায় দৃষ্টিটা তোর নামাস
বৃষ্টি যে ক্যান আমার চোখেই
নুপুর পায়ে পথচলা আজ থামাস!

একটু ঘুমোতে চাই …..
অক্টোবর 2, 2008

বলতো দেখি কেমন লাগে
জমাট বাঁধা কান্না চেপে
হিসেব করা শব্দ মেপে
তোকে যদি কেউ হাসতে বলে?
যে মানুষের জন্য শুধু
ঘৃণার উঠোন, শক্ত ধুধু
পেরিয়ে ভালবাসতে বলে?

বল সেটা কি হয় কোন দিন?
উহু, মোটেও হয়না যে
সত্য কোথাও অনেক সময়
সত্য কথা কয়না যে।

শেষ বিকেলের 'তুমি'
সেপ্টেম্বর 22, 2008

দুপুর বেলার রোদটুকু শেষ হলে
সেদিন শেষ বিকেলে বৃষ্টি নেমেছিল
ছটফটে খুব মনটা তোমার হঠাৎ
আমার কি দেখে ছাই সামনে থেমেছিল।

কোন সুদূরের কন্যা ছিলে তুমি
হঠাৎ করেই আসলে চলে কাছে
এতটা পথ পাড়ি দেবার পরেও
বিকেলটা আজ তোমার মনে আছে?

কয়টা দুপুর কয়টা বিকেল বেলা
দুই জীবনে আসলো এরও পরে
কতটা রোদ মিইয়ে গেল রোজই
বৃষ্টি আরও পড়লো কত ঝরে।

স্মৃতির পিঠে পড়লো স্মৃতি জমা
স্বপ্ন কত ভীড়লো দুপুর ঘুমে
মাকড়সা রোজ জাল বুনে যায় একা
বাড়িয়ে আকাশ, একলা আঁধার রুমে।

কয়েকটা সুখ আসলো ভুলে তবু
দু:খ কতক গাড়লো বসত ভুমি
প্রিয় আরও মুখ চলে যায় দূরে
যায়না শুধু সেই বিকেলের ‘তুমি’।

%d bloggers like this: